চিঠি দিবস: উত্তল-অবতল লেন্সের হার্মিসন!

ঘনিষ্ঠ মানুষদের জন্মদিন মনে রাখা এবং উইশ করার চর্চায় নির্ভুলতা ধরে রাখলেও প্রথাগত দিবস মনে থাকে শুধু থার্টি ফার্স্ট নাইট; নতুন বছরের শুরু মানে মিনিংফুল মোমেন্ট বৃদ্ধির টার্গেটে নিরবচ্ছিন্ন কায়িক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক ফুয়েলিং
আজ দুপুরে রাসায়াত জিকো Rashat Rahman Zico তার একটা পোস্টের লিংক শেয়ার করলেন। আড়াই বছর আগে একটা চিঠি কুরিয়ার করেছিলাম, সেটাই তাকে কারো লেখা সর্বশেষ চিঠি।
বিকেলে ইমেইল করলো এক তরুণী। ২০১৬-১৭ টাইমলাইনে সে আমার মেন্টরশিপে ছিল। হতাশ এবং বিভ্রান্ত। তার টাস্ক একটু ক্রিটিকাল তবে ক্রিয়েটিভও: প্রতি সপ্তাহে ঈশ্বরের উদ্দেশে একাধিক ইমেইল লেখা৷ এক নাগাড়ে দীর্ঘদিন চলেছে সেটা। চিঠি দিবসের শুভেচ্ছা জানালো সে।
সন্ধ্যায় হোয়াটসআপ করলো এক তরুণ। অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করে
‘ভাই আজ তো আপনারই দিন, আরো অনেক অনেক চিঠি লিখুন’
৩ জন মানুষ যখন একটা উপলক্ষকে সেলিব্রেট করবার জন্য আমাকেই সারথি মনোনীত করে, বকেয়া হয়ে যায় কতিবয় অব্যয়ীভাবী লাইন!
চিঠি, হ্যাঁ চিঠি। একটা চিঠি, সাতটা চিঠি, চিঠি খাচ্ছে হুটোপুটি, নয়শো চিঠি, চিঠিবৃক্ষে কাঠবিড়ালী!
চিঠি লেখাকে নিছক ‘প্যাশন’ শব্দবন্ধে নিবন্ধিত করলে সেটা অনেকটাই ট্যাক্স ফাঁকি দিতে আন্ডার ইনভয়সিং হয়ে যায়, যথার্থতম বাছাই ‘এডিকশন’; সুতরাং চিঠি বিষয়ে বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ থাকা উচিত আমার।
হয়তবা আছেও। কিন্তু উপযুক্ত মুহূর্তটি এখনো বিচরণ করছে প্রিম্যাচিউর পর্যায়ে। ম্যাচিউরিটির নদীতে নামুক ঢল!
চিঠি লিখবার ক্ষেত্রে কোনোপ্রকার ভাবাবেগ কাজ করেনি কখনো। পাবলিক স্পিকিং অপছন্দের কাজগুলোর মধ্যে প্রথম ৫এই থাকবে; কথা বলার ক্ষেত্রে ৮৯% ক্ষেত্রে প্রশ্নবোধক বাক্যের সঞ্চালন, অথবা wit temperature মিলে না বিধায় নিজেকে গুটিয়ে নিই ৭ মিনিটের থ্রেশল্ড টাচের পূর্বেই। চিঠি অব্যক্ততা আর অবদমনকে স্টেটমেন্টাইজ করে, ফলে চিন্তার গতিপ্রবাহ হয় কর্ণফুলী।
জীবনে কত শত বা কত হাজার মানুষকে চিঠি লিখেছি মনে নেই। রোমান্টিক বা প্রেমপত্র লিখেছি শুধুমাত্র ৩ জনকে- সপ্তমী, গায়ত্রি এবং শার্লেট! তবে অনুভূতি একপাক্ষিক হওয়াতে চিঠিগুলো একঘেয়ে আর ডিফেন্সিভ।
এ ত্রয়ীর বাইরে লেখা চিঠিগুলো বৈচিত্র‍্যময় এবং গল্পবহুল। শুধু বইয়ের ভেতরে যত চিঠিগ্রাফ লিখেছি, তা নিয়েই আয়োজন করা যায় এক্সিবিশন।
চিঠি লেখাকে অমানুষিক লেভেলে উন্নীত করবার ক্ষেত্রে ইনস্পাইরেশন হয়েছে লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি এবং বারর্ট্রান্ড রাসেল। ভিঞ্চির একটা নোটবুক ছিল ৬ হাজার পৃষ্ঠার, রাসেল প্রতিদিন ১ হাজার শব্দ লিখতেন। নটরডেমে পড়াকালীন রিতা জোসেফিন ম্যাডামকে না পাঠানো ৭০ চিঠিও হয়েছে অশ্বত্থ তথা বোধিবৃক্ষ!
চিঠির বা ইমেইলের রিসিপরোসিটি রেট হতাশাজনক৷ আমাকে যদি কেউ জিমনেসিয়ামে ইনভাইট করে কিংবা সেখানকার খরচ বহন করে, তবু তা এভেইল করব না, কারণ এ লাইফস্টাইল আমাকে প্রভোক করে না। যাদের চিঠি লিখেছি এতকাল, চিঠি বা ইমেইল তাদের জন্য আমার সাপেক্ষে জিমখানা। ফলে ১৯৯৭ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত ২৬ বছর আমি ঘোড়াকে সাইকেল চালানো শেখবার এবসার্ড চেষ্টা চালিয়ে গেছি চিঠি কনটেক্সট এ। ফেসবুকে চিঠি লিখবার ক্যারেক্টার চেয়ে বিজ্ঞপ্তিও দিয়েছি৷
ভাবনার ওয়েভলেন্থ রয়ে গেছে মিসম্যাচ!
শার্লেটকে ‘Land of Silence’ নিবেদনের পরে ভেবেছিলাম চিঠি থেকে অবসরগ্রহণের সময় সমাগত। কলম এবং কী-বোর্ড চিনতে পারছিল না অক্ষরকে। মাসল মেমরি এতটাই শক্তিশালী যে কলম কিংবা কী-বোর্ডের স্মৃতিবিভ্রমের হ্যালুসিনেশন তথা ধর্মঘটকেও সে বাধ্য করলো হরমুজ প্রণালী হতে।
তবে
হরমুজেরও আছে এক হিরন্ময় ব্যাকস্টোরি।।
২০২৩ এর এক বিকেলে হঠাৎ করেই মাহবুব নবী Mohammed Mahbub Un Nabi হয়ে গেলেন হার্মিসন; একটা apps এর সন্ধান দিলেন, নাম Slowly; যেখানে চিঠি পৌঁছায় দূরত্বের এককে। ঢাকা টু ঢাকা ৩৫ মিনিট, অন্যদিকে আমেরিকা বা আফ্রিকায় লাগে ৪৮ ঘন্টার কাছাকাছি। মাহবুব নবীর এ হার্মিসনগিরিতে সর্বশেষ ৩ বছরে শুধু slowly apps এই চিঠি লিখে ফেলেছি ৭০০+; ৩২ দেশে অন্তত ১ জন কালচারাল এম্বাসেডর তৈরি হয়েছে৷ সেখানে ১৭জনকে লিখলে রিপ্লাই আসে ৭জন থেকে, ৬ জনই AI এর মেঝো ফুপা, কিন্তু ১ জন পাওয়া যায় যার সাথে ম্যাজিকালিটি সক্রিয় হয়ে উঠে, যদিও তার মেয়াদ সর্বোচ্চ ৯ চিঠি!
তাতে কী; সে চলে গেলেও চিন্তার আর্কাইভ বেঁচে থাকে এলভিস প্রিসলি কিংবা টেন্ডুলকারের ফ্লিক শট হয়ে!
ঘোড়াকে সাইকেল চালানো শেখাবার ডিল্যুশন মুক্ত হওয়া আমার জন্য এক ব্যক্তিগত নেত্রকোণা! চিঠি দিবসে তাই হার্মিসন মাহবুব নবীর জন্য উপহার ঘোষণা করলাম ১টি চশমার ফ্রেম; কাঠের কিংবা টিনের চশমা নয়, উত্তল অথবা অবতল লেন্স যে চোখের উইটি উইটনেস!