ইচ্ছা, চেষ্টা ও অর্জনের ভিত্তিতে মানুষ সফল, ব্যর্থ ও অসফল হয়

সফল, ব্যর্থ এবং অসফল- মানুষকে তার ইচ্ছা, চেষ্টা ও অর্জনের ভিত্তিতে আমি এই তিনটি শ্রেণীতে বিভক্ত করি। তবে আমার ধারণা, গড়পড়তাভাবে বিভাজনটা সফল আর ব্যর্থ এর মধ্যে। আমি ব্যক্তিগতভাবে ব্যর্থতার ফ্যান, সফল মানুষদের গল্পগুলো খুব বেশি তেলতেলে, লিনিয়ার মনে হয়। যেহেতু ব্যর্থতাকে খুব তাৎপর্যপূর্ণ দৃষ্টিতে দেখি, এ প্রসঙ্গে ধীরে ধীরে আসি। তার আগে অসফল মানুষ বিষয়টা ক্লিয়ার করি। আমরা সমাজে যত মানুষ বসবাস করি তার বৃহত্তম অংশই জীবন কাটিয়ে দিই অসফল মানুষ হিসেবে। যেমন, কারো হয়তো ইচ্ছা ছিলো পাইলট হবে, সে হয়ে গেছে আবহাওয়া অফিসের কেরানি। অথবা, ইচ্ছা ছিলো শিল্পী হওয়ার, হয়ে গেছে ব্যাংকার। অহরহ এটাই হচ্ছে, এবং এ নিয়ে অনেকের মনোবেদনাও কাজ করে। আমরা অসফল, কারণ আমরা আমাদের ইচ্ছা পূরণের জন্য পর্যাপ্ত চেষ্টা করিনি, তার আগেই পারিবারিক ও সামাজিক পরিস্থিতির কারণে কঠোর বাস্তবতার কাছে নিজেদের সমর্পণ করে ফেলি। কেউ কেউ ২-১বার চেষ্টাও করি, কিন্তু চেষ্টাসংখ্যা বাড়ানোর মতো সাহস থাকে না। অসফল মানুষেরা একদিক থেকে সুখী মানুষ, কারণ তারা নিয়তিকে মেনে নিয়ে সে অনুযায়ী নিজেদের এডজাস্ট করতে পারে। চাহিদা নামক হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার পিছু পিছু ইদুর হয়ে সমস্ত জীবন ছুটে বেড়ায়, তারপর টুপ করে একদিন স্মৃতি হয়ে ছবির এলবামে ঠাঁই পায়। যে সচিব হতে চেয়েছিল, সে হয়তো তা হয়েছেও, তবু সে অসফল হতে পারে, কারণ সে বড় স্কেলে রিকগনিশন পায়নি, তাকে নিয়ে ফিচার বা স্টোরি হয়নি। তাহলে বিষয়টা দাঁড়াচ্ছে, অসফলতা একটি অনুভূতি।

সফলতা কনসেপ্টটাকে আমার আরোপিত লাগে। যে কৃষক গত বছর ১ মণ ধান ফলিয়েছিল, সে যদি এবছর ২ মণ ধান ফলাতে পারে সে সফল মানুষ। কিন্তু সোশ্যাল পারসপেকটিভ এ সাফল্য ব্যাপারটাকে পুরোপুরি অর্থনৈতিক ও মিডিয়া এনড্রোসমেন্ট এর ভিত্তিতে পরিমাপ করা হয়। এটা একটা গ্লোবাল পলিসি। কারো ফাইনান্সিয়াল ফ্রিডম থাকা মানে তার কন্ট্রিবিউট করার স্কোপও বেশি, এটা সত্যি, কিন্তু মিডিয়া আমাদের সামনে যাদের বেশি প্রেজেন্ট করে (হতে পারে সে সামাজিক উদ্যোক্তা, পেশাজীবী বা শিল্পী-সাহিত্যিক-খেলোয়াড়- বা প্রবাসী বিজ্ঞানী বা চাকুরে), আমরা তাদেরই সফল মানুষ মনে করি এবং তাদের মতো হতে চাই। আমি তাই সেই ইদুরগুলোর সাইকোলজি বুঝার চেষ্টা করি, মাঝে মাঝে মনে হয় ওরা হয়তো হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালাই হতে চেয়েছিল। আমাদের কল্পমানসে সফল মানুষের পোরট্রেইট মানে তো ওই হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা।
বর্তমান সময়ে সফলতা একটি প্রোফিটেবল বিজনেস। ডেল কার্নেগির অধিকাংশ বই তো এই ‘সফল হওয়ার’ মন্ত্র্র দিয়েই লেখা। এই শতকেও শিব খেরার  ‘তুমিও জিতবে’  বইটি প্রচণ্ড আলোড়ন তুলেছিল। স্টিফেন কোভি নামে একজন লেখক আছেন, যার   ‘সেভেন হ্যাবিটস অব হাইলি ইফেকটিভ পিপল ’     বইটি মিলিয়ন মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছে বিশ্বজুড়ে। মোটিভেশনাল স্পিকার এখনকার সময়ে একটি প্রমিজিং পার্ট টাইম প্রোফেশন। এইসব মোটিভেশন স্পিকারের সেশনে অডিয়েন্স সংখ্যাও প্রচুর। এই যে সফলতা সেল করার মিশন, সেই অনুপাতে সফল মানুষের সংখ্যা কি বাড়ছে? মিডিয়া এনড্রোসমেন্ট এবং ফাইনান্সিয়াল ফ্রিডম, এই দুটো ফ্যাক্টর বাদ দিলাম। সফল মানুষের বেসিক থিওরি, যা হওয়ার ইচ্ছা ছিলো সেই অনুসারে চেষ্টা করে সেটা হওয়া, এটাই স্ট্যান্ডার্ড ধরে নিলাম। এই স্ট্যান্ডার্ডেও সফল মানুষের সংখ্যা কি বাড়ছে? উত্তর হলো, বাড়ছে না। এর কারণ কী, এবং এই বইগুলো তাহলে এত বিক্রি হয় কেন এবং এইসব সেমিনারে এতো পারটিসিপেন্ট আসে কেন? কারণ, মানুষ সফল হতে চায় ঠিকই কিন্তু সফলতার গল্পগুলোর সাথে নিজেদের রিলেট করতে পারে না। গল্পগুলো শুনে তাদের মধ্যে সাময়িক মোটিভেশন তৈরি হয় হয়তো, কিন্তু সাসটেইন করে না। গ্যাপটা কোথায় তাহলে?
সফলতার গল্পগুলোতে কেবল এটা করেছি, সেটা করেছি, এভাবে করতে হবে, সেভাবে করতে হবে জাতীয় স্মৃতিচারণ আর উপদেশনামা। কিন্তু সেই গল্পে কোথাও উল্লেখ থাকে না, সফল হওয়ার ধাপে ধাপে তাকে কত জায়গায় কম্প্রোমাইজ করতে হয়েছে, নিজেকে ভাঙতে হয়েছে, কত মানুষ তাকে সহায়তা করেছে। এই অধ্যায়গুলো সফলতার গল্পে থাকে না, বরং ‘তুমি যা তা-ই থাকো, লেগে থাকো, বড় স্বপ্ন দেখো’ জাতীয় চার্মিং কিছু ওয়ার্ড একজন তরুণ বা তরুণীর মনের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়ার প্রবণতা থাকে। এই জাতীয় বায়বীয় উপদেশনামা খুব কম ক্ষেত্রেই প্র্যাকটিকালি ফলো করে মানুষ, কারণ উপদেশ শুনতে ভালো লাগে না অধিকাংশেরই। যেহেতু আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ প্রকৃতিগতভাবে অলস, মোটিভেশন নার্চার করার জন্য যে সদিচ্ছা, সেটা তাদের মধ্যে কাজ করে না। কিন্তু হুজুগ, হাইপ প্রভৃতি ফেনোমেনার বশবর্তী হয়ে মোটিভেশনাল বই কেনে, সেমিনারে এটেন্ড করে। কিন্তু পুরো বই শেষ করার ধৈর্য থাকে না, বা শেষ করলেও সেই অনুযায়ী চেষ্টা করার তাড়না তৈরি হয় না মনে। নিজের মধ্য থেকে যাদের মোটিভেশন আসে না, ধার করা মোটিভেশন তাদের কতটুকু বদলানোর সামর্থ্য রাখবে আর!

হতাশা বর্তমান সময়ে একটি পটেনশিয়াল মার্কেটপ্লেস। প্রতিটি বয়সের মানুষ নানা কারণে হতাশায় ভুগে, আত্মহত্যা করতে উদ্বুদ্ধ হয়। অধিকাংশেরই হতাশার পেছনে হয়তোবা বড় কোনো কারণ নেই। কেউ চাকরি না পেয়ে হতাশ, কেউ পরীক্ষায় ফেল করে হতাশ, কারো সম্পর্ক ভেঙ্গে গেছে বলে হতাশ, বন্ধু তার চাইতে বেশি বেতন পায় বলে হতাশ, পছন্দের সাবজেক্ট এ পড়তে না পেরে হতাশ, রেজাল্ট ভালো হচ্ছে না বলে হতাশ, সমাজের রীতি-নীতি- মানুষের আচরণে হতাশ। অর্থাৎ, হতাশার দীর্ঘ লাইন কাওরানবাজার থেকে শুরু হয়ে পঞ্চগড় পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছে। হতাশা কাটানোর জন্য যে মানসিক বল এবং উদ্যম প্রয়োজন, অলসতা সেই প্রাপ্তি থেকে তাদের দূরে ঠেলে দেয়। এই সিজনাল বা মৌসুমি হতাশ মানুষদের বিনামূল্যে বা সমূল্যে উৎসাহ দেয়ার জন্য গড়ে উঠে ভলান্টারি অর্গানাইজেশন, লেখা হয় গল্প-কবিতার বই। হতাশা কাটানোর মহান ব্রত পালন করার স্বীকৃতিস্বরূপ নানা জায়গা থেকে ফান্ডও পাওয়া যায়। এই পটেনশিয়াল মার্কেট টিকিয়ে রাখার জন্য হলেও আরও বেশি বেশি হতাশ মানুষ প্রয়োজন।
হতাশ মানুষ আসলে অলস মানুষ। মোটিভেশনাল বই, মোটিভেশনাল স্পিকার এই কনসেপ্টগুলোর সম্প্রসারণ মানে হ্যাপিনেস ইনডেক্স এ তলানীর দিকে ছুটতে থাকা। তবে হতাশাও একধরনের রিকগনিশন, যা পাওয়ার অধিকার শুধুমাত্র ব্যর্থ মানুষের।

সফল মানুষেরা সফল হওয়ার পর তাদের ব্যর্থতাকে গ্লোরিফাই করার এক এজেন্ডায় নামে। হয়তোবা ২ দিন দুপুরের খাবার সন্ধ্যায় খেয়েছে, সেটা গল্প হয়ে যায় দিনের পর দিন না খেয়ে থেকেছি। হয়তো, ২-১ জন তাকে কথা দিয়ে কথা রাখেনি, সেটা হয়ে যাবে এমন একজন মানুষও পাইনি যাকে বিশ্বাস করা যায়। এবং, এই পয়েন্ট থেকেই আসে সেই অমোঘ বাণী, ‘ এতো কিছু সত্ত্বেও হাল ছেড়ে দিইনি, নিজের লক্ষ্যে অটল ছিলাম। আমি জানতাম, পারতে আমাকে হবেই’। প্রত্যেক সফল মানুষই প্রচণ্ড স্ট্রাগল করে নিজের লক্ষ্যে পৌঁছায়, আমি একটা কথা প্রায়ই বলি, স্ট্রাগলই সত্যি, সাফল্য সাময়িক। পৃথিবীতে এমন একজনও মানুষ বোধহয় পাওয়া যাবে না যে স্ট্রাগল না করে সফল হয়েছে। তাই তাদের স্ট্রাগলকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগই নেই। কিন্তু সেই স্ট্রাগলটা যখন প্রাইড হয়ে উঠে, এবং এক্সাম্পল দেয়ার টেন্ডেন্সি কাজ করে তখন স্ট্রাগল ব্যাপারটাকে বড্ড লঘু মনে হয়। আব্দুল্লাহ আবু সাইয়ীদ এর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র গড়ার গল্প শুনে মোটিভেশন আসে, জাকারবার্গের ফেসবুক গড়ার গল্প শুনে মোটিভেশন আসে। কিন্তু সেই মোটিভেশন কর্পূরের মতো উবে যায় পরক্ষণেই। এই যে উবে যাওয়া এর ব্যাখ্যা কী? আমরা অনেক কিছুই চিন্তা করি, কিন্তু চিন্তাগুলো বাস্তবায়নে উদ্যমী হই না। ফলে সময়ের প্রবাহের সাথে সাথে চিন্তাগুলো জমে জমে ফ্যান্টাসিতে রূপান্তরিত হয়। অধিকাংশ সফলতা প্রত্যাশী অসফল মানুষেরা ‘ফ্যান্টাসি’ নিয়ে জীবন কাটায়। তাদের বয়স বাড়ে, সন্তানের পিতা-মাতা হয়, তবু ফ্যান্টাসির সমাপ্তি হয় না। একসময় সিস্টেমকে দোষারোপ করে, দেশ, সরকার আর ভাগ্যকে গালমন্দ করে এইসব মানুষেরা তাদের ফ্যান্টাসিকে পরিতৃপ্ত করে।
হুমায়ূন আহমেদ এর একটা লেখা পড়েছিলাম, সফল মানুষদের সফলতার গল্পগুলো বানানো হয়। তবু কেউ কেউ সফলদের গল্প শুনে, বই পড়ে সত্যিকারের উদ্বুদ্ধ হয়, চেষ্টা করে নিজে সফলও হয় হয়তোবা। কিন্তু এই পারসেন্টেজটা এখনো অনেক কম।
কাজেই এটা বুঝা যাচ্ছে, সফলদের গল্প শুনে সফল হওয়া যাবে না সহসা। বিকল্প কী হতে পারে? এ নিয়ে আমার একটা হাইপোথিসিস আছে। আমরা যত বেশি ব্যর্থ মানুষের সাথে মিশবো, তাদের কথা শুনবো, সফলতার আকাংখা তত তীব্র হবে, সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পাবে।

ব্যর্থ মানুষ কারা? যারা তাদের ইচ্ছা বাস্তবায়নে অনেকদিন ধরে চেষ্টা করেছে, নানানভাবে চেষ্টা করেছে, কিন্তু শেষপর্যন্ত ইচ্ছা পূরণ করতে পারেনি। এটা না হতেই পারে, এবং এদের সংখ্যাটাই বেশি। নিউটনের ২৫ বছর ধরে লেখা পাণ্ডুলিপি কুকুরের ভুলে পুড়ে গিয়েছিল, সেই পাণ্ডুলিপি তিনি আবার লিখেছিলেন। এই গল্প আমরা জানি, কিন্তু এটা জানি না এরকম আরও অনেক নিউটনই পাণ্ডুলিপি লিখেছিল দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে, কিন্তু কোনো কারণে সেই পাণ্ডুলিপি আর প্রকাশিত হয়নি। নিউটনের চাইতে বরং যে মানুষটি পাণ্ডুলিপি প্রকাশ করতে পারলো না তার গল্প বেশি রিয়েলিস্টিক মনে হবে, নিজের মধ্যে জেদ তৈরি করবে।
মানুষ কেন সফল হয় এর চাইতে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ মানুষ কীভাবে ব্যর্থ হয়, এই উত্তর জানা। আপনি ব্যর্থ মানুষের কাছে গেলে জানতে পারবেন বাস্তবতা কত নিষ্ঠুর, স্বপ্নভঙ্গের হতাশা কত তীব্র। শুধুমাত্র ব্যর্থ মানুষেরই হতাশ হওয়ার অধিকার আছে। আমরা অসফল মানুষেরা শখের বসে হতাশ হবার ভান করে ব্যর্থ মানুষের মানসিক আশ্রয়ের জায়গাটিতে ভাগ বসাই। এটা হিপোক্রিসি।

ব্যর্থ মানুষ আপনাকে কখনোই পজিটিভ কথা বলবে না, আপনাকে ডিমোটিভেটেড করবে, নানা কথা বলে আপনার মনোবল ভেঙ্গে দেবে, তার লাইফস্টাইল থেকে আপনার শিক্ষণীয় কিছু নেই। কিন্তু যত তার গল্প শুনবেন, তার সাথে মিশবেন তত আপনার পরীক্ষা হয়ে যাবে, নেগেটিভিটিকে মেনে নেবার স্ট্রেন্থ আপনার আছে কিনা, আপনি যে ইচ্ছাটা ধারণ করে আছেন সেটা পূরণ করার মতো সামর্থ্য আপনার আছে কিনা, একটা মানুষ কোন পর্যায়ে গিয়ে ভেঙ্গে পড়ে সে সম্পর্কেও জানতে পারবেন। ফলে আপনার মাইন্ডসেট এবং এটিটুড হবে অনেক বেশি রিয়েলিস্টিক। আপনি পজিটিভ ভাইব এর ফানুসে যে সাময়িক মোটিভেশন পান সেখানে রিয়েলিটি কম থাকে, স্ট্রাগলের করুণ চিত্র থাকেই না বলতে গেলে। ফলে মোটিভেশনাল বই পড়ে ফ্যাব্রিকেটেড মোটিভেটেড হওয়া আপনার বন্ধুর চাইতে আপনি অনেকখানি এগিয়ে থাকবেন ব্যর্থ মানুষের সাথে কাটানো সময়গুলো থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতার প্রভাবে। আপনি নিজেও ফিল করতে পারবেন না, একজন প্রকৃত ব্যর্থ মানুষ কোন্ ম্যাজিকে আপনার পুরো চিন্তাপ্রক্রিয়াটা বদলে দিয়েছে। সফল মানুষ সেটা পারবে না, কারণ তাকে আপনার বরাবরই দূরের মানুষ মনে হবে, কিন্তু ব্যর্থকে মনে হবে খুব চেনা কেউ একজন।
সঙ্গদোষে লোহা ভাসে। এই প্রবাদ মানুষকে রিস্ক নিতে নিরুৎসাহিত করে। অনেক মনীষীই বলেছেন, ব্যর্থ মানুষদের এড়িয়ে চলুন, কারণ তারা আপনাকেও ব্যর্থ বানিয়ে দিবে, আপনার উদ্যম নষ্ট করে দেবে। অসফল আর ব্যর্থ মানুষকে গুলিয়ে ফেললে এরকমটা হওয়ার অবকাশ থাকে। অসফল মানুষ জানেই না ব্যর্থ হওয়ার যন্ত্রণা কী। ব্যর্থ হওয়া কঠিন মেন্টাল স্ট্রেন্থ আর ধৈর্যের ব্যাপার। মূলৈত অসফল মানুষেরাই শখের বসে নিজেদের ব্যর্থ পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনার ইচ্ছা কী এবং সেটা পূরণে কতটুকু চেষ্টা করেছেন? যতটুকু করেছেন সেটুকু কি এনাফ? এই প্রশ্নের উত্তরে নিজেকে স্যাটিসফাই করতে পারলেই বুঝবেন আপনি অসফল, নাকি ব্যর্থ। আমি মনে করি, অসফল হওয়ার চাইতে ব্যর্থ হওয়া ভালো। কিন্তু সেই ডেসপারেট মনোভাব ধারণ করার সাহস আমরা মধ্যবিত্তরা বিবিধ চাপের মুখে আর করে উঠতে পারি না।
সফল মানুষের গল্প তো অনেক পড়া হলো। সেটা যেহেতু কাজ দিচ্ছে না ইফেকটিভলি, ব্যর্থ মানুষের গল্প খুঁজুন, তাদের সাথে মিশুন। এটা উপদেশ নয়, হাইপোথিসিস শেয়ার করা মাত্র।
পৃথিবীর ইতিহাস বিজয়ীদের গল্প বলে চিরকাল। ক্লাসে ফার্স্ট হওয়া ছেলেটাই সবার মনোযোগ হরণ করে। ফলে এই সমাজে ব্যর্থ মানুষের কোনো মূল্যায়ন নেই, তাদের ইতিহাস হরপ্পা নগরীর সাথে মাটিচাপা পড়ে থাকে। অথচ, এই ব্যর্থ মানুষেরাই চেঞ্জ মেকার হওয়ার উপকরণ যোগান দিতে পারে, স্বপ্ন সত্যি করার উপলক্ষ্য হতে পারে। রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যর্থ মানুষকে মূল্যায়ন করলে মানুষ ব্যর্থ হওয়াকেই গৌরবজনক মনে করে আরও বল্গাহীন জীবন যাপন করবে। তাই এটা কখনোই প্রত্যাশা নয়। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে কেউ যদি সফল হতে চায় তার প্রচুর সময় ব্যর্থ মানুষের পিছনে ব্যয় করতে হবেই।

ব্যর্থতাই মুক্তি,ব্যর্থতাই স্বস্তি। ব্যর্থতা অলংকার নয়, অহঙ্কার। সমগ্র জীবনে ১০০ জন সফল মানুষের গল্প শোনার চাইতে ১০ জন ব্যর্থ মানুষের গল্প অনেক মঙ্গলজনক। পৃথিবীর সকল ব্যর্থ মানুষকে তাদের চেষ্টা চালানোর স্বীকৃতিস্বরূপ ধন্যবাদ জানাই। আপনারা ছিলেন এবং আছেন বলেই, আজও বিলগেটস, জাকারবার্গরা আমাদের আরাধ্য হতে পারছেন। আপনাদের নিঃস্বার্থ স্যাক্রিফাইসই আমাদের স্বার্থপূরণের নিমিত্ত।

Share your vote!


Do you like this post?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid