কার সন্ধানে কোথায়, শিক্ষা শেখায় যেথা

গতরাতে একটি বই পড়ার চেষ্টা করলাম, সংকল্পহেতু পড়ে শেষ করেছি আজ বিকালে। জীবনের ৮৯% এর বেশি বই শেষ করিনি যেখানে, সেখানে এই বই পড়া শুরুর পূর্বেই শেষ করার সংকল্প নেয়াটা কিছুটা কৌতূহলোদ্দীপক।

আমি বইপড়ুয়া না হলেও মানুষপড়ুয়া একজন। মানুষ পড়ার ক্ষেত্রে বাছবিচার না করলেও বই পড়ার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নীতি অনুসরণ করি। কী পড়বো, এর চাইতে সহস্র গুণ জরুরী মনে করি কী কী পড়বো না সেই বিধিবিধান সুসংহত করাকে। সেইসব বিধিবিধান অন্য কোনো লেখার উপাত্ত হয়ে থাকুক, এই লেখা বরং গতকালকের পড়তে চাওয়া বইটি নিয়েই এগুতে থাকুক।

আরো একবার বলতে চাই, বইয়ের চাইতে মানুষ পড়তে চাওয়ার প্রতি ঝোঁক বেশি অনুভব করি। গতকাল যে বইটি পড়তে চেয়েছিলাম এবং আজ শেষ করলাম, শিরোনাম তার ‘ একুশ শতক, অন্যরকম শিক্ষার সন্ধানে’; লিখেছেন ফারহানা মান্নান।

এই বইটি যদি ফারহানা হক নামের কোনো লেখক লিখতো, আমি কি পড়তাম? হ্যাঁ, অবশ্যই। ‘শিক্ষা’ ধারণাটা আমি উপভোগ করি, এবং শিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিকতা নিয়ে যারা সময় এবং শক্তি ব্যয় করে তাদের চিন্তাধারা উপলব্ধির চেষ্টা করি। ‘একাডেমিক’ শব্দটার মধ্যেই ভারিক্কি এবং আরোপিত গাম্ভীর্য আবিষ্কার করি যেখানে রিপ্রোডাক্টিভ, এবং রিফ্লেক্টিভ চিন্তাধারাকেই প্রমোট করা হয়। অথচ শিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিকতা নিয়ে যারা কাজ করে তাদেরই হওয়া উচিত তুলনামূলক বেশি স্বকীয় চিন্তাধারার ধারক। যখনই শিক্ষা বিষয়ক কোনো বই বা লেখার সন্ধান পাই, পড়ার চেষ্টা করি এজন্য নয় যে নিজে শিক্ষাবিদ হবো, বরং এটা বোঝার চেষ্টা করি স্বকীয় চিন্তাধারার কোনো মানুষ এখানে কন্ট্রিবিউট করছে কিনা। অধিকাংশ সময়ই মোহভঙ্গের ছন্দপতন ঘটে। সেই বই আর শেষ করা হয় না। কিন্তু লেখক যেহেতু ফারহানা মান্নান, পূর্বানুমিতই ছিলো ছন্দে ছন্দে দুলি আনন্দে অনুভূতি হবে না, প্রত্যাশার সীমা তাই নাগালের মধ্যেই ছিলো। তবু বইটি শেষ করতেই হতো, কারণ ব্যক্তি ফারহানা মান্নান একজন ইন্টারেস্টিং ভাবধারার মানুষ।বই তো ব্যক্তিকেই রিপ্রেজেন্ট করে, তার ব্যক্তিসত্তা নিয়ে কিছু পড়াশোনা ছিলো; বই পড়ার সূত্র ধরে পারসেপশনগুলোকে ডিসিসনে উন্নীত করার একটা উদ্যোগ।

ফারহানা মান্নানের সাথে আমার সর্বসাকুল্যে ৫ বার দেখা হয়েছে। প্রথমবার, A2I এর অফিসে, ২য় বার A2I এর সুজন ভাইয়ের সাথে তাদের অফিসের গাড়িতে লিফট নেয়ার সময়, ৩য় বার তার ১ ঘন্টা ৫৭ মিনিট ব্যাপ্তির ইন্টারভিউ নেয়ার সৌজন্যে, বাকি ২বার আরিফাকে নিয়ে স্কয়ার হাসপাতালে যাওয়া সূত্রে কাকতালীয়ভাবে সেখানেই।

তবে তার সাথে আপাত অগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন কারণে ৭ বারের বেশি ভারচুয়াল কমিউনিকেশন হয়েছে। তিনি আর্লি চাইল্ডহুড নিয়ে কাজ করেন, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে গ্রাজুয়েশন করে আই ই আর থেকে মাস্টার্স করেছেন, এই দুটো তথ্য তাকে একজন স্রোতবিমুখী মানুষ হিসেবে অধিষ্ঠিত করেছিলো আমার মননে।

বিশেষত তার ইন্টারভিউ নেয়ার অভিজ্ঞতাটা ৪০০০ ইন্টারভিউয়ের মধ্যেও অন্যতম সুখস্মৃতি ছিলো। যেহেতু আমি আপাত বিবেচনায় আমজনতা টাইপ মানুষেরই ইন্টারভিউ নিই বেশি, তাদের সাথে কেন গল্প করছি এটা ব্যাখ্যা করতেই হিমশিম খেতে হয়। আরেকটু ভদ্রস্থ শ্রেণি ইন্টারভিউ শব্দেই অস্বস্তিতে ভোগে।

কিন্তু A2I এর ক্যাফেতে লাঞ্চ করার সময় তাকে যখন ইন্টারভিউয়ের গল্প বলি তিনি খুবই স্বাভাবিক আচরণ করেন, যেন শখের বসেই শত শত ইন্টারভিউ নিবে মানুষ এটাই নিয়ম, উপরন্তু রাজু আলাউদ্দিনের ইন্টারভিউয়ের বইয়ের রেফারেন্স বলেন, এবং যেদিন তার ইন্টারভিউ নিই সেদিনও সর্বপ্রকার জড়তাহীন উত্তর দেয়ার চেষ্টা করেছেন; সময় স্বল্পতা না থাকলে সেই ইন্টারভিউয়ের ব্যাপ্তি অবলীলায় ৭-৮ ঘন্টা হয়ে যেতো। আমি তো ১০-১১ ঘন্টাও ইন্টারভিউ নিয়েছি বহুবারই।

নিজেকে যদিও শিক্ষা গবেষক হিসেবেই উল্লেখ করেন সাধারণত, তাকে একজন ভালো মানের উপস্থাপক এবং প্রোএক্টিভ প্রস্তাবক ভেবেই অনুসিদ্ধান্তে ছিলাম আমি।

আমি গবেষণার যে ধারণায় বিশ্বাস করি, সেখানে কয়েকটি প্রবণতা থাকা অতি আবশ্যক গণ্য করি। প্রথমত, বিশ্লেষণ, দ্বিতীয়ত পর্যবেক্ষণ, তৃতীয়ত পর্যালোচনা, চতুর্থত সংশ্লেষণ, পঞ্চমত চ্যালেঞ্জ অথবা সমঝোতা, ষষ্ঠত স্বকীয় উপলব্ধি বা অনুসিদ্ধান্ত, এবং সর্বশেষ সুপারিশ বা প্রস্তাবনা। প্রথম ৬টি প্রবণতা ব্যতিরেকে ৭ম প্রবণতার কোনো বৈধ ভিত্তি থাকতে পারে, মানি না। প্রথম ৬টি প্রবণতাকে নারিশ করতে হলে যুক্তি, কারণ, পরম্পরা, বিরতি, বিচ্যুতি, গ্যাপ, রিয়েলিটি বনাম আইডিয়ালিজম সহ বহু প্রকরণ নিয়ে ডিল করতে হয়। গো+এষণা# গবেষণা।

একই মানুষ কি অসাধারণ বক্তা এবং অসাধারণ চিন্তক হতে পারে? দুটো পুরোপুরি আলাদা যোগ্যতা। মানুষের সময় এবং শক্তি যেহেতু সীমিত এবং নির্দিষ্ট, দুটো বিপরীতধর্মী যোগ্যতা রপ্ত করতে গেলে সময়-শক্তি বিভাজিত হয়ে পড়ে, সে তখন লেভেল অব এক্সিলেন্সে উঠতে ব্যর্থ হয়ে দুটোতেই এভারেজ/ এবাভ এভারেজ মানে বিচরণ করে।

বাংলা ট্রিবিউনে ফারহানা মান্নানের বেশ কয়েকটা নিবন্ধ পড়ার পর প্রাথমিক ইমপ্রেসন ছিলো, তিনি আদতে একজন বক্তা যিনি লেখারও ধৈর্য রাখেন। ওয়েব পোর্টালের লেখাগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ফরমায়েশি ধরনের হয়, এই বিবেচনায় তার লেখকসত্তাকে বেনিফিট অব ডাউট দিই, এবং সিদ্ধান্ত নিই তার এক বা একাধিক বই পড়বো।

যদি তার ইন্টারভিউ নেয়ার অভিজ্ঞতাটা সুখকর না হতো, নিশ্চিতভাবেই বাংলা ট্রিবিউনের ২-৩টা লেখা পড়ে পাওয়া অনুসিদ্ধান্তই তাকে পড়ার জন্য পর্যাপ্ত ধরে নিয়ে সময়-শক্তি অন্য কোনো মানুষে বিনিয়োগ করতাম। কিন্তু আমার বিজনেসই মেমরি ক্রিয়েট করা; ইন্টারভিউয়ের মূল্যটা যাচাই করা উচিত।ইন্টারভিউতে তার বেশ কয়েকটা উত্তর শুনে ব্যতিক্রমী ভাবধারা+ প্রথাগত চিন্তাধারার এক সংকরায়ণের সম্ভাবনা আবিষ্কার করি, এবং অনেকটাই নিশ্চিত হই, তিনি চিন্তক নন, বক্তামানুষ।
গবেষণায় গ্ল্যামার নেই বলেই পৃথিবীতে গবেষক হতে চাওয়া মানুষের সংখ্যা হাতে গোনা। এবং রিমার্কেবল বা মিনিংফুল গবেষণা প্রচুর পরিমাণে isolation এবং নিভৃতচারিতা দাবি করে আমার ধারণা। তবে গবেষণাতেও গ্ল্যামার যুক্ত হয়েছে গত শতাব্দী বা তারও আগে, যে কারণে গবেষকদেরও এখন প্রগলভ হতে হয়, কনফারেন্সে যোগ দিতে হয়। ফ্রেডরিখ নীটশে বা ইমানুয়েল কান্টকে কি দার্শনিক বলবো, নাকি গবেষক? দার্শনিকতা একটি আরোপিত ধারণা, গবেষক বরং দার্শনিকতাকে ধারণ করার একটা স্পেস এফোর্ড করতে পারেন।

ফারহানা মান্নানের বই থেকে আমার ঠিক কী প্রত্যাশা ছিলো? শিক্ষা বিষয়ে গভীর কোনো উপলব্ধি, পর্যবেক্ষণ, নিজস্ব কোনো মডেল, নাকি রিফ্লেক্টিভ কিছু প্রস্তাবনা? নির্মোহভাবে বললে, শেষ অপশনটিই মাথায় ঘুরছিলো এবং আদতেই পড়াশেষে সেই প্রাপ্তিযোগই ঘটেছে। সুতরাং প্রত্যাশা পূরণের আনন্দ আস্বাদন করা উচিত। কিন্তু যে প্রস্তাবনার পেছনে পর্যাপ্ত রিজনিং নেই, ক্রিটিকাল এনালাইসিস নেই এবং সর্বোপরি পরিস্থিতির গভীরে ঢুকবার প্রয়াস নেই, সেই প্রস্তাবনাকে অনেকটাই বায়বীয় স্টেটমেন্টের মতো লাগে, এবং যেহেতু ফারহানা মান্নানের লেখক এবং গবেষক উভয় সত্তাকেই আমি ফরমাল এস্টাব্লিশমেন্ট হিসেবে দেখি, স্টেটমেন্টের বাইরে প্রত্যাশাও কিছু ছিলো না। তবে এইসকল স্টেটমেন্টের মধ্যেও শিশুদের জীবনের প্রথম ৮-১০ বছরের শিক্ষাপ্রক্রিয়াকে তিনি যে ‘প্লে সেন্টার’ মোডের অধীনে আনতে বলেছেন এটা আমাকে পরের লেভেল নিয়ে ভাবতে প্রণোদনা যুগিয়েছে। হয়তোবা প্লে সেন্টার কনসেপ্টটার গভীর থেকে গভীরে প্রবেশ করে কাস্টমাইজড একটা মডেল দাঁড় করাবো কোনো একদিন।

বইটিকে তিনি যে ৪টি প্রধান অঞ্চলে বিভক্ত করে লিখেছেন প্রতিটিই অন্তত ২৪১ পৃষ্ঠা ব্যাপ্তির স্বতন্ত্র বই হওয়ার দাবিদার, অথচ তার সমগ্র বইটাই মাত্র ১৩৫ পৃষ্ঠায় সমাপ্ত হয়ে গেছে। ৪ খণ্ডে বই প্রকাশ করতে গেলে যে নিমগ্নতা, নিরবিচ্ছিন্নতা আর নিষ্ঠা প্রয়োজন, মার্কেট ইকোনমিক্স সেই স্পেসটুকু দিবে কিনা এই প্রশ্ন মাথায় এলেই গবেষণাচারিতার নির্বাসনদন্ড জুটে যায়।

এই বইয়ের পাঠক আসলে কারা? হয়তোবা একাডেমিক প্রফেশনাল শ্রেণি। তারা কিছু কী-ওয়ার্ডের সাথে পরিচিত হবেন, আলোচনা করবেন, কিন্তু প্রয়োগদক্ষতা অর্জন করবেন কি? ইনভেনশন, ইনোভেশন, ইম্প্রোভাইজেশন- তিনটি শব্দই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বড়ো অংশের মানুষই ইনভেনশন-ইনোভেশনে মাততে গিয়ে কিছুই করতে পারে না, কারণ পৃথিবীর জ্ঞান চর্চার ইতিহাস একটি দীর্ঘ পরম্পরা রক্ষা করে বর্তমান পরিস্থিতিতে এসে উপনীত হয়েছে, এখন তাই ইনভেন্ট-ইনোভেট না করলেও চলে, কিন্তু ইম্প্রোভাইজ দক্ষতা থেকেই মিনিং তৈরি করা সম্ভব। পক্ষান্তরে ইম্প্রোভাইজ করতে হলে ইনভেনশন-ইনোভেশনে প্রবল আগ্রহ থাকা অনিবার্য। এই ফ্যাক্টর থেকেই আমাদের পিছয়ে পড়ার শুরু।

এই বইটা আমি লিখলে কী করতাম? প্রচুর হাইপোথিসিস বানাতাম এবং সেগুলোকে প্রুভেন ফ্যাক্ট স্তরে উন্নীত করতে সেই সংক্রান্ত অজস্র রিয়েল লাইফ স্টোরি থেকে একটা প্যাটার্ন বের করে মিসিং লিংকগুলো আবিষ্কার করে সেগুলোর মধ্যে কোরিলেশন প্রতিষ্ঠা করতে চাইতাম। যেমন, আমাদের একাডেমিক কারিকুলামগুলো কেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল চাহিদা পূরণ করতে পারে না, কেন জগতবিচ্ছিন্ন, কেবল এই একটা পাজল সমাধান করতেই স্কুল-কলেজ-ভার্সিটির শিক্ষক-স্টুডেন্ট- বিভিন্ন সেক্টরের এমপ্লোয়ারদের বক্তব্য শুনে তারপর হাইপোথিসিসগুলো ভেরিফাই করতাম। লেখালিখি বিপুল পরিমাণে স্যাক্রিফাইস এবং চিন্তা বিনিয়োগ দাবি করে, এটাই লেখার রিচুয়াল।

রিচুয়ালের ঘোরে না ঢুকে কেবলমাত্র স্বীকৃতি আর সংখ্যাবৃদ্ধির অভিপ্রায়ে বই লেখাটা এক ধরনের ডিভাইন কনস্পাইরেসি লাগে। ফারহানা মান্নানের ব্যক্তিত্ব যেহেতু আমার আগ্রহের বিষয়, লেখালিখি নয়, তাকে তাই নির্দ্বিধায় ডিভাইন কনস্পাইরেসির ইন্টারোগেশন সেল থেকে অব্যাহতি দেয়া যায়।

তবে ঠিক একই কারণে তার আচরণে কিছুটা বিস্মিতও হয়েছি। তরুণ লেখকের বইতে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি বা লেখকের ভূমিকা লেখা বা কভারে সেরকম এক বা একাধিক মহীরূহের বক্তব্য তুলে দেয়ার রীতিকে সবসময়ই হাস্যকর লাগে, যদিও তরুণ এবং মহীরূহ দুই পক্ষই এই রীতিকে ব্যাপকমাত্রায় লালন করে থাকেন। আহমেদ মুসা নামক জনৈক লেখকের বইতে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান যে ভূমিকা লিখবেন, তাপসী নুর নামক লেখকের বইয়ের ভূমিকাতেও হেরফের সামান্যই; দুজনের বইয়ের বিষয়বস্তু যাই হোক।

যেহেতু ৯ বছর ধরে বিজনেস ফিলোসফার ক্যারিয়ারে আছি, কাস্টমার রিভিউ, ইনফ্লুয়েন্সিয়াল পারসন টেস্টিমনিয়াল, রেফারেল প্রভৃতি কনসেপ্টের সাথে সখ্য না থাকলেও পরিচিতি আছে ভালোমতোই। বইকেও আমি প্রোডাক্ট বা সার্ভিস হিসেবেই দেখি। তবে অন্যান্য প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের সাথে বইয়ের পার্থক্য এখানেই যে, একজন লেখক তার কন্টেন্ট মেরিট বা বক্তব্যের সততা নিয়ে আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগলেই কেবল এধরনের স্ট্র‍্যাটেজির আশ্রয় নেয়া উচিত। বিদেশী বেস্টসেলার বইতেও উল্লিখিত স্ট্র‍্যাটেজি অবলম্বন করা হয়; সেই সকল লেখক বা প্রকাশক কি তবে কনফিডেন্সহীনতায় ভুগে; এই প্রশ্নেই আমার বক্তব্য খারিজ করে দেয়া যায়, কিন্তু ব্যক্তি ফারহানা মান্নানের সাথে আলাপ হয়েছিলো বলেই খারিজ করতে মন সাঁয় দিচ্ছে না।

তাকে আমার স্বাধীনচেতা, এবং স্বকীয় বৈশিষ্ট্যপ্রিয় একজন মানুষ হিসেবেই ইন্টারপ্রেট করা হয়েছিলো। সুতরাং জাফর ইকবাল স্যারের স্ত্রী ডক্টর ইয়াসমীন হককে ভূমিকা লিখতে হবে, কায়কোবাদ স্যারের টেস্টিমনিয়াল নিতে হবে, এগুলো কি নিজের বক্তব্যের বৈধতা-যথার্থতা প্রমাণ-প্রতিষ্ঠায় গুরুজনকে সামনে রাখা, নাকি চিরাচরিত রীতি, সেই উপসংহারে আসা হলো না। উপসংহার খুব জরুরী কিছুও না আদতে। দিনশেষে সবই ডাটা।

সন্ধান আর অনুসন্ধানের মধ্যে ফারাক বিস্তর। ফারহানা মান্নান এরপরেও শিক্ষা সংক্রান্ত আরো বই লিখবেন হয়তোবা, তবে সেখানে সন্ধান নয়, অনুসন্ধানী দর্শন প্রাধান্য পাক। যদিও অনুসন্ধানে শ্রম অমানবিক পর্যায়ের, স্বীকৃতি শিশুসম, তবু উপস্থাপক, প্রস্তাবক ফারহানা মান্নান গবেষণার শ্বাপদসংকুলতা জয় করার সাহস সঞ্চয় করতে থাকুক। তার মানুষভাবনা মানুষি দুর্বলতা অতিক্রম করে ছুটে চলুক মহাজীবনের প্রশস্ত গন্তব্যে।

শেখার মাঝে থাকলে গলদ, যোগ্য কি হওয়া যায়
শিক্ষাই জানে, গুণে আর মানে, শেখানোর কত দায়

Share your vote!


Do you like this post?
  • Fascinated
  • Happy
  • Sad
  • Angry
  • Bored
  • Afraid